প্রকাশিত:
২৬ জানুয়ারী, ২০২৬

শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। প্রবল তুষারপাত, তীব্র বাতাস এবং হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় অন্তত ১০ লাখ বাসিন্দা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় অন্ধকারে রয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে কয়েকশ শহরের জনজীবন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনযায়ী, রোববার (২৫ জানুয়ারি) একদিনে বাতিল করা হয় ১৬ হাজারের বেশি ফ্লাইট।
ন্যাশনাল গ্রিড এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, পেনসিলভানিয়া, নিউ ইয়র্ক এবং কানেকটিকাট রাজ্যে ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। প্রচণ্ড বাতাসের কারণে গাছ উপড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ওপর পড়ায় এই বিশাল এলাকা ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়েছে। শূন্যের নিচে তাপমাত্রা এবং অন্ধকারের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তুষার, বরফ ও হিমবৃষ্টি মিলিয়ে জীবননাশের ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শীতকালীন ঝড়ের কারণে লুইজিয়ানায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া টেক্সাসেও আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আক্রান্ত রাজ্যগুলোর গভর্নররা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। মেইন এবং ম্যাসাচুসেটসে লোকজনকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন অস্থায়ী ‘ওয়ার্মিং সেন্টার’ বা উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে যাতে বিদ্যুৎহীন মানুষ হাইপোথার্মিয়া থেকে বাঁচতে পারে।
"এটি সাধারণ কোনো তুষারপাত নয়, বরং একটি জীবননাশী পরিস্থিতি। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করতে, কিন্তু তীব্র বাতাসের কারণে কর্মীরা উঁচু লাইনে কাজ করতে পারছেন না।" — নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বরফ জমে গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎতের লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ লাখ বাসিন্দা। টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎহীন তিন লাখ ৩০ হাজারের বেশি, মিসিসিপিতে এক লাখ ৬০ হাজার, লুইজিয়ানা ও টেক্সাসেও হাজার হাজার মানুষ অন্ধকারে। মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
ঝড়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও। নিউ ইংল্যান্ড থেকে দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস বাতিল ও ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। তুষার ঝড়ের কারণে শার্লটে সব ধরনের গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে দশ হাজারের বেশি ফ্লাইট। অন্তত ২৪টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি সতকর্তা ঘোষণা করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও ৪৮ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। অনেক এলাকায় ৩ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত তুষার জমার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর মেরু থেকে আসা এই তীব্র শীতল বাতাস বা 'পোলার ভর্টেক্স'-এর প্রভাবে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।